Saturday, September 17, 2016

How to find computer age কিভাবে আপনার কম্পিউটার এর বয়স জানবেন

How to find computer age কিভাবে আপনার কম্পিউটার এর বয়স জানবেন

How to find computer age কিভাবে আপনার কম্পিউটার এর বয়স জানবেন


 

আমরা অনেকেই পুরাতন কম্পিউটার, নেটবুক , ল্যাপটপ কিনি বা অনেকেই মনে মনে ভাবছেন পুরাতন কম্পিউটার, ল্যাপটপ,নেটবুক কিনব কিন্তু একটু সমস্যা হল how to find computer age কিভাবে আপনার কম্পিউটার এর বয়স জানবেন.
এটা কতদিনের পুরাতন টা জানাটা একটু দরকার ।তাই যারা এগুলোর বয়স জানাটা একটু জরুরি মনে করেন তার জন্যই এই পোস্ট । কারন যে বিক্রি করবে সে সঠিক তারিখ নাও বলতে পারে । তাই আজ থেকে যেনে নিন কিভাবে একটি কম্পিউটার এর বয়স বের করা যাই তবে যারা যানেন তাদের জন্য আজকের পোস্ট নই। জানলে ভালো না জানলে যেনে নিন ।তো কথা বাড়িয়ে লাভ নাই কাজের কথাই আশি ।

নিচের ধাপ গুলো পর্যায়ক্রমে অনুসরন করুন ঃ

১. প্রথমে স্টার্ট মেনু তে যান ।

২. সার্চ অপশন থেকে cmd টাইপ করুন এবং ফাইল টিকে run as administration হিসেবে চালু করুন অথবা cmd চালু করুন ।

৩. সেখানে টাইপ করুন নিচের কোডটি অর্থাৎ DEBUG টাইপ করে এন্টার দিন ।

৪. তারপর সেখানে টাইপ করুন DF000:FFF5 এবং এন্টার দিন ।

৫. তারপর দেখেন মজা আপনার কম্পিউটার এর বয়স বের হয়ে আসবে ।




Post By Abu Talha

Thursday, September 1, 2016

অবশেষে ভাগ্য খুললো আশরাফুলের !



সেপ্টেম্বরের ২০ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আর এই বছর মাঠে গড়াচ্ছে না। তাঁর পরিবর্তে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) আরম্ভ হওয়ার সম্ভবনা অনেকটাই বেশি।আর সেই লিগে আবারবো ব্যাট হাতে দেখা যেতে পারে মোহাম্মাদ আশরাফুলকে।

এই প্রসঙ্গে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান জানান, “এখন আর বিসিএল আয়োজন করে লাভ নেই। তাই আগামী মাসের শেষ দিকে জাতীয় লিগ আয়োজনের কথা ভাবছি আমরা।’ যেহেতু ঐ আসর খেলার ওপর আইসিসির নিষেধাজ্ঞা নেই। জাতীয় লিগে ভালো করা ছাড়া বিসিএলে অংশ নেয়া যাবে না, এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াও নেই।”

যেহেতু ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠলেও এখনই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না আশরাফুল। আইসিসির সাজা অনুযায়ী আরো দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আশরাফুলের উপর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলতে পারলেও অংশগ্রহণ করতে পারবেন ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ গুলোতে।সে দিক দিয়ে বলাই যেতে পারে।জাতীয় লিগ দিয়ে আশরাফুল বিসিএলে খেলতে পারবেন।Post By Abu Talha

এই সেই হামজা যে ২১৭ টি ব্যাংক থেকে ৪০ কোটি ডলার হ্যাক করে অবশেষে হাসি মুখে ফাঁসিতে ঝুলে পড়েন, জানুন কেন?


এই সেই হামজা বেনদেলাজ, যিনি ২১৭ টি ব্যাংক থেকে ৪০ কোটি ডলার হ্যাক করেন এবং আফ্রিকা ও ফিলিস্তিনে অনাহারে অর্ধাহারে মরে যাওয়ার উপক্রম মানুষদের মাজে বিলিয়ে দেন! আদালতে তাঁর ফাঁসির রায় হলে অবশেষে হাসি মুখে ফাঁসিতে ঝুলে পড়েন! আদালতে তার বক্তব্য পরিস্কার ছিল-"আমি কোন পাপ করিনি, গরিবের পেঠ চাঁপা দিয়ে সমাজের দুর্নীতিবাজরা যে পয়সা ব্যংকে জমা রেখেছিল আমি তা গরিবের পেঠেই পৌঁছালাম, এটি অপরাধ? স্যালুট হামজা তোমায় হাজার স্যালুট ভাই! এই দুনিয়ায় নিজের হক ছিনিয়েই হাসিল করতে হবে!Post By Abu Talha

বাংলাদেশী পাসপোর্ট বানাতে আর পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে না।



পাসপোর্ট সেবা পেতে আর পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রথা থাকছে না বলে জানিয়েছেন পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান।

তিনি বলেন, পাসপোর্ট সেবা পেতে জনগণ হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হচ্ছে। পাসপোর্ট তৈরিতে যেসব সমস্যা হচ্ছে এর বেশিরভাগই পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে। শিগগিরই সত্যায়ন ও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রথা তুলে নেয়া হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে মঙ্গলবার পাসপোর্ট অধিদফতরের ওপর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত এক গণশুনানিতে তিনি এ কথা জানান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দালালদের হাত থেকে পাসপোর্ট অফিস মুক্ত করতে হবে। পাসপোর্ট নিয়ে মানুষের নানা ভোগান্তি এখনো রয়ে গেছে। এগুলো দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে আসে, সেবা খাতের মধ্যে পাসপোর্ট করতে এসে সবচেয়ে বেশি মানুষ দুর্নীতি ও ভোগান্তির শিকার হন।

উল্লেখ্য, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন পাচঁ হাজার নাগরিককে সেবা দেয়া হয়। এই সেবা কার্যক্রমের ওপর অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অংশ নেয় ভুক্তভোগী ও দুর্নীতির শিকার জনগণ।

Post By Abu Talha

বসুন্ধরায় দুইবার আগুন লাগার কথা কেন জানাতে পারলেন না প্রতারক লিটন দেওয়ান? নিজেই দেখুন ভিডিওতে




বসুন্ধরা শপিং মলে বসে ভবিষ্যৎ জানানর ফেরীওয়ালা বসুন্ধরায় দুইবার আগুন লাগার কথা কেনজ্যোতিষী লিটন দেওয়ান জানাতে পারেনি তা জানতে চেয়েছেন নায়িকা সাদিয়া আফরিন। তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করে এই প্রশ্ন তুলেন। তিনি জানান তার আত্নীয়ের প্রতারিত হওয়ার গল্প।

নায়িকা সাদিয়া আফরিন তার ফেইসবুক ষ্ট্যাটাসে লেখেন, ” বসুন্ধরায় আগুন লাগলো হারামীটা কোথায় ছিল ???

জ্যোতিষ রাজ নামের বাটপার টা কে অনেকেই চেনেন। পত্রিকায় প্রায়ই বিজ্ঞাপন দেন। উনি অতীত,বর্তমান,ভবিষ্যৎ সব বলে দেন। চেম্বার বসুন্ধরা সিটিতে ।

বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগলো কয়েক বার – একবারও বাটপারের বাচ্চা ভবিষ্যৎ বাণী করতে পারলেন না কেন ???

আমি ২০১২ সালে তার চেম্বারে গিয়েছিলাম জিজ্ঞাসা করেছিলাম বলেন আমি কেন এসেছি

আপনার কাছে,বলেছিলেন আমি বড় রকম সমস্যায় পরেছি তাই ওনার শরানাপন্ন্ হয়েছি।

উত্তরে আমি বলেছিলাম আমার এক কাজিনের থেকে প্রতারনা করে পাথর দিয়ে ৫৫০০০ টাকা নিয়েছিলেন তা ফেরৎ নিতে,শূনে প্রথমে রেগে গিয়েছিলেন পরে টাকা ফেরৎ ঠিক দিয়েছিলেন এই বাটপার ।

লাইসেন্স করে প্রতিদিন মানুষের সাথে প্রতারনা করে যাচ্ছেন এই রকম অনেক বাটপার,

সরকারের কি কিছুই করার নেই ???”

কে এই লিটন দেওয়ান?



যার ছিল ছন্নছাড়া জীবন। নুন আনতে পান্তা ফুরাত। তিনিই এখন অঢেল সম্পত্তির মালিক। দিনমজুরি করে যখন সংসার চলত না, তখন তিনি বেছে নেন বাসের হেলপারি। কিন্তু এ কাজ করেও তার স্বস্তি হচ্ছিল না। তখন তিনি ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে বেছে নেন ঝাড়ফুঁক আর কবিরাজির পথ। এর কয়েক বছরের মধ্যে গ্রামের হতদরিদ্র ছেলে লিটন বনে যান খোদ রাজধানীর সেরা জ্যোতিষরাজ। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আলাদিনের চেরাগ হাতে পাওয়ার কাহিনীর মতো রাতারাতি পরিণত হন বড় এক ধনকুবের।

হাত দেখে পাথর ধরিয়ে দেয়া হয়। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। যার হিসাব নিজেও রাখতে পারেন না। তাই চেম্বারে তাকে রাখতে হয়েছে একাধিক কর্মচারী। অথচ এই লিটন দেওয়ানই র‌্যাবের অপরাধ তথ্যভাণ্ডারে (ক্রিমিনাল ডাটাবেজ) একজন পেশাদার প্রতারক। গ্রেফতার হয়ে যিনি প্রতারণার সব তথ্য ফাঁস করে দেন। কিন্তু জেলের ভাত তাকে বেশিদিন খেতে হয়নি। বিচিত্র দেশ। জেলখাটা এ প্রতারকের সঙ্গে ছবি তুলেছেন সমাজের বহু নামিদামি ব্যক্তি। আর গত ৭ বছরে ধরে দিব্যি তিনি বহাল-তবিয়তে হাইপ্রোফাইল চেম্বার খুলে চুটিয়ে প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

লিটন দেওয়ানের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত আবদুর সাত্তার দেওয়ান। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। দেশ স্বাধীনের আগে লিটন দেওয়ানের বাবা দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে ফেরি করে অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করতেন। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের টানাটানি বেড়ে যায়। বাধ্য হয়ে পেটের তাগিদে লিটন দিনমজুরি শুরু করেন। কিন্তু দ্রুত ধনী হওয়ার জন্য তার মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা ও জিদ কাজ করত। গ্রামের সমবয়সী লোকজনের কাছে তিনি প্রায় তার এমন মনোবাসনার কথা বলতেন।

স্থানীয়রা জানান, বেশি টাকা আয় করার জন্য ১০-১৫ বছর আগে তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে গাড়ির গ্যারেজে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনে হেলপার (চালকের সহকারী) হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করার একপর্যায়ে রাজধানীর পল্টন এলাকায় ফুটপাতে বসা ল্যাংড়া আমিন নামের এক জ্যোতিষের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। তার নজর পড়ে বিনা পুঁজির এই লোভনীয় ব্যবসার প্রতি। অল্প কিছুদিনের মধ্যে তার কাছ থেকে কিছু কৌশলও রপ্ত করে নেন তিনি। এরপর নিজেই ফুটপাতে বসে পড়েন। নিজেকে জ্যোতিষ শাস্ত্রের গুরু দাবি করে লিটন দেওয়ান পাথর ব্যবসা শুরু করেন।

অবস্থার একটু উন্নতি হলে রাজধানীর পলওয়েল মার্কেটের ৫ম তলায় জ্যোতিষ চর্চার আস্তানা খুলে বসেন। কিন্তু লিটনের হাতে প্রতারিত হওয়ার বিভিন্ন অভিযোগ আসতে থাকলে পলওয়েল মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা তাকে মার্কেট থেকে বের করে দেন। কিন্তু নাছোড়বান্দা লিটন দেওয়ান হাল ছাড়েননি। কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে খুলে বসেন চেম্বার। সেখানে তিনি একটি কৌশলের আশ্রয় নেন। কিছু বন্ধু-বান্ধব জুটিয়ে তাদের দিয়ে উপকার পাওয়ার গল্প ছড়াতে শুরু করেন। নতুন কোনো কাস্টমার এলেই এ চক্র লিটন দেওয়ানের গুণগান শোনাতেন। এভাবে দ্রুত তার এই প্রতারণা ব্যবসার প্রসার ঘটে। ঝড়ে বক পড়ে, আর ফকিরের কেরামতি বাড়ে এমন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি উঠে আসেন অভিজাত এক বিপণিবিতানে।

১০-১৫ বছর আগেও লিটন দেওয়ানসহ তার অন্য ভাইয়েরা সবাই দিনমজুর ছিলেন। ঢাকায় গিয়ে নিজেকে বড় মাপের জ্যোতিষ জাহির করার পর গ্রামে তার পিতার কবরকেও পীরের মাজার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে তার বড় ভাই শহিদুল ইসলাম পিতার মাজারের খাদেম সেজে তাবিজ-কবচ ও পাথর বিক্রি করেন। অন্য দুই ভাই দুলাল দেওয়ান ও রিপন দেওয়ান রাজধানীতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক পদে চাকরি করেন।

এলাকাবাসী জানান, লিটন দেওয়ান প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডিও পার হননি। অবশ্য লিটন দেওয়ান দাবি করেন তিনি স্থানীয় রুসদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রিও নিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুসদী প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী আজিজুল হক বলেন, আমি তো ওই স্কুলের শিক্ষক ছিলাম। তিনি আমার ছাত্র ছিলেন বলে মনে পড়ে না। লিটন দেওয়ানের পিতা পীর সাহেব ছিলেন কিনা জানতে চাইলে কাজী আজিজুল হক বলেন, না তিনি কখনই পীর সাহেব ছিলেন না। তার মৃত্যুর পর লিটন দেওয়ান ঢাকা থেকে লোকজন নিয়ে এসে ওরস না কি যেন পালন করে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর কোনো আগ্রহই নেই। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি জিয়াউদ্দীন বলেন, আমি লিটন দেওয়ানকে তো বটেই তার পিতাকেও ঘনিষ্ঠভাবে চিনতাম। তিনি একজন দরিদ্র ও দুস্থ ব্যক্তি ছিলেন। তার ছেলে লিটন দেওয়ান জ্যোতিষগিরি করে প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক বনে গেছেন। এসব নিয়ে এলাকায় অনেক কথাবার্তা প্রচলিত আছে। শুনেছি লিটন দেওয়ান সম্প্রতি হীরার (ডায়মন্ড) ব্যবসা শুরু করেছেন। এলাকায় অনেকে লিটন দেওয়ানকে প্রতারক ও ভণ্ড বলে জানে।

বিশাল বিত্তবৈভব : সূত্র বলছে, প্রতারণার মাধ্যমে লিটন দেওয়ান বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। তার সম্পদের খোঁজ করতে গিয়ে বিস্ময়ে হতবাক না হয়ে কারও উপায় নেই। রাজধানীর একটি একটি অভিজাত বিপণিবিতানে তার মালিকানাধীন দোকান রয়েছে অন্তত ১৫টি। এর মধ্যে ৬টি দোকানের ঠিকানা পাওয়া গেছে। এগুলো হল লেভেল-১ এর ডি ব্লকের ৭০, ৭১, ৭৩, ৭৪, ৮৭ ও ১০০ নম্বর দোকান।

এসব দোকানে রয়েছে লিটন দেওয়ানের পাথর, সুগন্ধিসহ নানা ধরনের পণ্যের শোরুম। প্রতিটি দোকানের দাম অন্তত দেড় কোটি টাকা। লিটন দেওয়ান আগে পাজেরো জিপে চলাফেরা করতেন। এখন চড়েন দামি ব্যান্ডের প্রাইভেট কারে। সূত্র বলছে, লিটন দেওয়ান রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি ফ্ল্যাটের মালিক। রাজধানীর ৩, চামেলীবাগে একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্টে লিটনের ৫টি ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া গেছে।

বর্তমানে এসব ফ্ল্যাটের প্রতিটির মূল্য অন্তত ৮০ লাখ টাকা। বিশ বছর আগেও ভিটেবাড়ি ছাড়া কোনো সম্পদ না থাকলেও বর্তমানে লিটন দেওয়ান তার পরিবারের সদস্যদের নামে শ্রীনগরে পাঁচ একর কৃষি জমি কিনেছেন। তার পিতার কবরেও বিশাল মাজার কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত অপরাধী : র‌্যাবের অপরাধী তথ্যভাণ্ডারে (ক্রিমিনাল ডাটাবেজ) লিটন দেওয়ানের নাম রয়েছে। তথ্যভাণ্ডারের তথ্য অনুযায়ী লিটন দেওয়ান একজন পেশাদার প্রতারক। তার সম্পর্কে অন্যান্য তথ্য হচ্ছে, লিটন দেওয়ানের উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। গায়ের রং ফর্সা, সুশ্রী ও মায়াবী চেহারা। চোখের রং কালো। বর্তমান বয়স (২০০৭ সালে রেকর্ডকৃত) ৪৫ বছর।

র‌্যাবের ডাটাবেজে বলা হয়েছে, লিটন দেওয়ানের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তবে সময় ও আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলমান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংগতি রেখে চলেন। তিনি বিবাহিত এবং বাংলা ভাষায় শুধু ভাষা জ্ঞান রয়েছে। ঢাকায় তার ঠিকানা কাকরাইলের ইস্টার্ন পার্ক অ্যাপার্টমেন্ট। তার প্রধান সহযোগীর নাম জাহাঙ্গীর আলম। পিতার নাম আবদুর রাজ্জাক মোল্লা। গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার বারাংকোলা।

আরও দুই সহযোগীর একজন হলেন শামীম। পিতা আলী আজম হাওলাদার। স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল জেলার বাখেরগঞ্জ থানার কাশিনা গ্রাম। অপরজনের নাম সারোয়ার। তবে সারোয়ারের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। র‌্যাবের তথ্যভাণ্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে লিটন দেওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক দুটি মামলা রয়েছে (মামলা নং ২৯ ও ৩০)।

লিটন দেওয়ানের বক্তব্য : প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, সব সম্পদ নিয়ম অনুযায়ী তার আয়কর ফাইলে প্রদর্শিত। বৈধ ব্যবসা করেই এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও তার প্রতি ভক্তদের বিশ্বাস এতটুকুও কমেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, জ্যোতিষ শাস্ত্রের সাধনা লেখাপড়া করে হয় না। এটা সাধনার বিষয়। দীর্ঘ সাধনার মাধ্যমে তিনি জ্যোতিষ হিসেবে খ্যাতি ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। তার দাবি, কোনোকালেই তিনি পরিবহন শ্রমিক ছিলেন না।

একেবারে অজোপাড়াগাঁ থেকে উঠে আসা এক সময়ের অখ্যাত মানুষটি এখন বিলাসবহুল চেম্বার খুলে বসেছেন খোদ রাজধানীতে। একটি অভিজাত স্বনামধন্য বিপণিবিতানে রয়েছে তার জ্যোতিষশাস্ত্রের দফতর। এটি আবার সব মুসকিল আসান দফতর নামেও পরিচিত। কেউ কেউ বলেন, জিন্দা পীরের দরবার। ভক্তদের কেউ আবার পাগলা বাবার দরবার বলতেও পছন্দ করেন।

কিন্তু নাম যাই হোক না কেন, কাজ নিয়ে রয়েছে ভয়াবহ সব তথ্য ও প্রমাণ। এখানে মূলত মানুষের ধর্মীয় গোঁড়ামি আর অন্ধ বিশ্বাসকে পুঁজি করে লিটন দেওয়ান রীতিমতো বিখ্যাত উপন্যাস ‘লালসালুর’ কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের মতো ‘মাজার’ খুলে বসেছেন। নিজেকে বিখ্যাত জ্যোতিষবিদ দাবি করে দু’হাতে খালি করে চলেছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের পকেট। আবার সম্মানের ভয়ে মুখ না খুললেও বহু নারী তার হাতে বিপজ্জনক শিকারে পরিণত হয়েছেন।

তথ্যপ্রমাণসহ লিটন দেওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি আসলে একজন ভণ্ড এবং প্রতারক। প্রতারণাই তার আসল ব্যবসা। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তিনি সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আর টাকার জোরে আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখেও ধুলো দিতে সক্ষম হয়েছেন।

লিটনের আখড়ায় সরেজমিন : বড় অংকের লটারি ও চাকরি পাইয়ে দেয়া, মামলায় জেতানো, ভালো লাগার মানুষ ও পরস্ত্রীকে বশে আনা, বিদেশ যেতে বাধা দূর করাসহ সব ধরনের সমস্যার সমাধান দেন লিটন দেওয়ান। এক কথায়, এমন কোনো সমস্যা নেই যার সমাধান লিটনের কাছে নেই। খবরের কাগজে ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দিনরাত মিথ্যার বেসাতির মতো লিটন দেওয়ানের গুণগান ও মহত্ত্বকথা ছড়িয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। লিটনের সাক্ষাৎকার ছাপানো হচ্ছে অখ্যাত বিভিন্ন সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনেও। আবার শুধু টাকার জন্য এই প্রতারকের বিজ্ঞাপনে মডেল হতে দেখা গেছে নামিদামি অভিনেতাকেও।

বেলা তখন সাড়ে ১২টা। দেখা গেল, ডাক্তারের ফি’র মতো লিটন দেওয়ানের কর্মচারীরা সাক্ষাৎপ্রার্থীদের নাম খাতায় এন্ট্রি করে প্রত্যেকের কাছ থেকে আগাম ফি নিচ্ছেন। জনপ্রতি ৫শ’ টাকা। ওই ভরদুপুরে সিরিয়াল নম্বর ৭৫ । ‘৭৬ নম্বরে সিরিয়ালে সাক্ষাৎ পেতে হলে রাত ১১টাও বেজে যেতে পারে।’ তাই বাধ্য হয়ে ভিন্ন উপায়ে সিরিয়াল কমিয়ে ৫৪ করা হল। এবার দীর্ঘ অপেক্ষা।

লিটন বসে আছেন কাচঘেরা বিশেষ একটি সুসজ্জিত কক্ষে। অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ। সমস্যাগ্রস্ত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চেম্বারের বাইরে অপেক্ষমাণ। আগে-পরে ঢোকা নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় রীতিমতো ঝগড়া হচ্ছে। ঝগড়া সামাল দিচ্ছেন লিটনের ব্যক্তিগত কর্মচারীরা। একজন নারী দর্শনার্থী লিটন দেওয়ানের ব্যক্তিগত কর্মচারীদের উদ্দেশ করে বলেন, গত মাসেও এসেছিলাম। কিন্তু ভিড়ের কারণে ‘বাবার’ সাক্ষাৎ পাইনি। এবার একটু তাড়াতাড়ি সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেন। এ অনুরোধ শুনে একজন কর্মচারী রীতিমতো কড়া ধমক দেন। বলেন, দেখছেন না কত ভিড়। আপনাকে আগে পাঠালে অন্যরা কি বলবে। চুপচাপ বসে থাকেন। সিরিয়াল এলে তবেই ভেতরে ঢুকতে পারবেন। ধমক খেয়ে চুপ করে যান ওই নারী।

মুন্সীগঞ্জ থেকে এক নবদম্পতি এসেছেন লিটনের সাক্ষাৎ পেতে। সমস্যা জানতে চাইলে তারা জানালেন, মাত্র এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে সুখী নন। নানা সমস্যা হচ্ছে। জিন-পরীর কুনজর পড়েছে মনে করে তারা ‘লিটন বাবা’র কাছে ‘তদ্বির’ নিতে এসেছেন। আরেকজন কানাডা প্রবাসী নারী দর্শনার্থী এসেছেন। পরকীয়ার কারণে তার সংসার ভেঙে যাচ্ছে। প্রতিকার পেতে তিনি বাবার আস্তানায় এসেছেন। একজন ব্যবসায়ী এসেছেন তার ব্যবসা ভালো করার তদবির নিতে। লিটন দেওয়ান এসব দর্শনার্থীর কাছ থেকে একের পর এক এসব সমস্যার কথা শুনে সমানে সরকারি হাসপাতালের প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দেয়ার মতো পাথর, আংটি ও তাবিজ দিচ্ছেন। বলা হচ্ছে, ১০০ পার্সেন্ট গ্যারান্টি। সব ঠিক হয়ে যাবে।

সন্ধ্যা ৭টায় ৫৪ নম্বর সিরিয়ালের ডাক পড়ল।চেম্বারের ভেতরে লিটন দেওয়ানের মুখোমুখি । কিন্তু তার কক্ষে ঢুকে অনেকটা বিস্মিত হতে হল। ঘরময় নানা ধরনের পুরস্কার, ক্রেস্ট আর মন্ত্রী-এমপিসহ গণমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে লিটনের তোলা ছবি দিয়ে সাজসাজ অবয়ব। ঘরে বড় করে টানানো আছে আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লিটনকে দেয়া সম্মাননা, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট। বিশাল এক বিলাসবহুল চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন কথিত জ্যোতিষ রাজ লিটন। পরনে সবুজ রংয়ের পাঞ্জাবি। মাথায় কালো টুপি। কক্ষের ভেতরে ঢোকামাত্র বিশেষ ভঙ্গিতে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন তিনি। ইশারায় বসতে বললেন। সালাম ও নানা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিটন দেওয়ানকে বলা হল, ‘চাকরির বয়স শেষ। যেভাবেই হোক এবার বিসিএস পরীক্ষায় চান্স পাওয়াতেই হবে। সমস্যা শুনে দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেললেন লিটন। বললেন, তোর সমস্যা অনেক জটিল। তবে আমি সবাধান দেয়ার অছিলা মাত্র। সব সমাধান দেবেন (উপরের দিকে একটা আঙুল তুলে) তিনি। কোথায় থাকি, নাম পরিচয়, বাবার নাম ইত্যাদি জানতে চাইলেন। এরপর রাশি নির্ধারণের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে আতশি কাচ দিয়ে উল্টেপাল্টে হাত দেখলেন। এরপর বললেন, শনির রাহু গ্রাস করেছে। রাহু কাটাতে নীলার (পাথর) আংটি পরতে হবে। আংটির দাম ১৫ হাজার টাকা। এই আংটি পরলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

এরপর আস্তানা থেকে বেরিয়ে আসতেই বাইরে থাকা লিটনের কর্মচারীরা ঘিরে ধরলেন। তাদের বক্তব্য-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষ, এখন টাকা দেন, পাথরের আংটি নিয়ে যান।’ এত টাকা সঙ্গে নেই জানিয়ে কিছুক্ষণ পরে আসার কথা বলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা গেল।

জানা গেল, প্রতিদিন লিটন দেওয়ানের কাছে গড়ে দেড়শ’ সমস্যাপীড়িত মানুষ সাক্ষাৎ করতে আসেন। এদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫শ’ টাকা করে শুধু দর্শনী ফি বাবদ দৈনিক আদায় করা হয় ৭৫ হাজার টাকা। মাসের হিসাবে এই অংক সাড়ে ২২ লাখ। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় তিন কোটি টাকা। লিটন নিজেই বলেছেন, ৩০ বছর ধরে এই ব্যবসা করছেন তিনি।

প্রলোভনের বিজ্ঞাপন : লিটন দেওয়ানের বিজ্ঞাপনে অনেক নামিদামি চিত্রতারকারা বলেন, তারা ‘দেওয়ান সাহেব’র কাছে এসে উপকৃত হয়েছেন। তাদের অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।’ এসব চিত্রতারকার মধ্যে আছেন শীর্ষস্থানীয় চিত্রপরিচালক কাজী হায়াৎ, খল অভিনেতা আহমেদ শরীফ, চিত্র নায়িকা রত্না, অভিনেত্রী খালেদা আক্তার, রিনা খান, চিত্রনায়ক হেলাল খান ও অভিনেতা আমিরুল হক চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন দৃশ্যে চিত্রনায়ক হেলাল খানকে বলতে দেখা যায়, ‘আমাকে উনি (লিটন দেওয়ান) একটা পাথরের আংটি দিয়েছেন। আমি উপকার পেয়েছি। আপনারাও আসুন, আমার মনে হয় উপকার পাবেন।’ বিশিষ্ট অভিনেত্রী রিনা খান বিজ্ঞাপনে বলছেন, ‘জ্যোতিষরাজ লিটন দেওয়ানের কাছ থেকে এই পাথর কিনে ব্যবহার করি। এই পাথর ব্যবহার করার পরে আমার জীবনে সুখশান্তি ফিরে আসে। আপনারাও এই পাথর ব্যবহার করুন। এই পাথর আসল পাথর। জ্যোতিষরাজ লিটন দেওয়ান মানুষের মুখ দেখেই তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন।’ বর্ষীয়ান অভিনেতা আমিরুল হক চৌধুরীকে বিজ্ঞাপনে বলতে দেখা যায়, ‘কোন সমস্যায় কি সমাধান দিতে হবে এটাই তার সাধনা। আপনার সমস্যাগুলো তাকে বলুন। নিশ্চয় আপনি উপকৃত হবেন।’ চিত্রপরিচালক কাজী হায়াৎকে বলতে দেখা যায়, ‘লিটন দেওয়ান একজন নামকরা জ্যোতিষ। তার কাছ থেকে একটি পাথর নিলাম। দেওয়ান সাহেব বললেন, আপনি এই পাথরটি পরবেন। আপনার জীবনে সাফল্য আসবে।’ চিত্র নায়িকা রত্নাকে বলতে দেখা যায়, ‘আমি আমার জীবনের নানা সমস্যা উনাকে (লিটন দেওয়ান) বললাম। সব শুনে তিনি আমাকে দুটি আংটি দিলেন। আংটি দুটি আমি ব্যবহার করছি। এখন আমি অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছি।’ খল অভিনেতা আহেমদ শরীফ বলছেন, লিটন দেওয়ান একজন গুণী ব্যক্তি। তার পিতাও একজন বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। তার পিতার মাজার শরিফের ঔরস অনুষ্ঠানে আমি নিজে যাই। আপনারাও যাবেন। লিটন দেওয়ানের কাছে এসে আমি উপকৃত হয়েছি।’ বিজ্ঞাপন চিত্রে ঢাকায় চলচ্চিত্রের একজন বর্ষীয়ান অভিনেতাকে পাথরের আংটিতে চুমু দিতে দিতে লিটন দেওয়ানের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনের আরেকটি দৃশ্যে দেখা যায়, লিটন দেওয়ান একজন সুন্দরী তরুণীর হাত ধরে তার মুখের দিকে চেয়ে বসে আছেন। এ সময় ওই তরুণীকেও লিটন দেওয়ানের দিকে তাকিয়ে রোমান্টিক ভঙ্গিতে হাসতে দেখা যায়।

যা বললেন অভিনেতারা : এসব চিত্র অভিনেতা কি সত্যি উপকার পেয়ে এসব কথা বলছেন? নাকি শুধু টাকার জন্য শেখানো কথাগুলো ক্যামেরার সামনে মডেল হিসেবে অভিনয় করেছেন? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে অভিনেতা আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, অভিনয়ই তার পেশা। তবে একটা মান বজায় রেখেই তিনি অভিনয় করেন। লিটন দেওয়ানের বিজ্ঞাপনেও তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অভিনয় করেছেন মাত্র। কিন্তু অভিনয়ের সময় তারা তাকে দিয়ে যা বলাতে চেয়েছিল তার সবকিছু তিনি বলেননি। যেটুকু যৌক্তিক মনে করেছেন সেটুকুই বলেছেন।

অভিনেত্রী রীনা খানের কাছে একই বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অভিনেত্রী। অভিনয় করাই আমার কাজ। তবে এই বিজ্ঞাপনে তিনি একা নন, আরও অনেকে অভিনয় করেছেন। এ বিষয়টাতে সবাই যে বক্তব্য দেবেন তারও একই বক্তব্য। অভিনেতা হেলাল খান এখন কারাগারে আছেন। তাই তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। চিত্রনায়িকা রত্না প্রশ্নের উত্তরে কোনো সাড়া দেননি। বিদেশে অবস্থান করায় পরিচালক কাজী হায়াতের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

গ্রেফতারের পর স্বীকারোক্তি : প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালের ১৪ আগস্ট লিটন দেওয়ানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম ও শামীম নামের লিটন দেওয়ানের দুই সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার পর নিজের সব অপরাধের কথা অকপটে স্বীকার করেন লিটন দেওয়ান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জ্যোতিষ লাইনটা, এই যে পীর ফকিরী এইটা ভণ্ডামি। যারাই করতাছে সব ভণ্ডামি। আমরাও ভুলের কারণে জড়াইয়া গেছিলাম।’ চিকিৎসার জন্য আসা নিঃসন্তান নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্তান মহিলারা আমাদের কাছে কম আসে। তবে বিভিন্ন বয়সী মহিলারা আমাদের কাছে আসে। অনেক সময় আমাদের সান্নিধ্য পেতেও চায়। আমরাও লোভ-লালসায় জড়ায়ে যাই। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই লাইন ছেড়ে দেব। আমি অনুতপ্ত।’ র‌্যাব-৩ এর তৎকালীন অধিনায়ক উইং কমান্ডার সুলতান মাহমুদ নূরানী সে সময় সাংবাদিকদের জানান, আধ্যাত্মিক শক্তির দাবিদার এই প্রতারকের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছে বহু মানুষ। সে অলৌকিক নানা শক্তি প্রদর্শন করতে পারে বলে প্রচার করত। বলা হতো, তার ঘরের ছাদের ওপর থেকে রক্তের ফোঁটা পড়ে। পরে তাদের তদন্তে দেখা গেল, সে বিশেষ কৌশলে কেমিক্যাল দিয়ে এসব প্রতারণার আশ্রয় নিত।

এদিকে তার প্রতারণার বিষয়ে অনুসন্ধান চলাকালে ১৯ মার্চ লিটন দেওয়ান ফোন করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘ভাই, নিউজ টিউজ কইর‌্যা কি হইব? আমি তো একা খাই না। সবাই মিল্ল্যা জুল্ল্যা খাই। একদিন আমার অফিসে আসেন। চা খান।’

বক্তব্য : ১৮ মার্চ লিটন দেওয়ান তার কার্যালয়ে বসে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। প্রতারণা বা ভণ্ডামি করলে তিনি এতদিন টিকে থাকতে পারতেন না। তবে এ দীর্ঘ সময়ে তাকে র‌্যাব, পুলিশের নানা ধরনের ঝামেলা সহ্য করতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন ২০০৮ সালে র‌্যাব তাকে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে। অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ না থাকায় মাত্র ১৬ দিনের মাথায় তিনি জামিনও পান। দায়েরকৃত মামলাও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সব অভিযোগ থেকে তিনি সম্পূর্ণ খালাস পেয়েছেন। টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা তার ব্যবসা। ব্যবসার প্রচার-প্রসার বাড়ানোর জন্য সবাই যেভাবে বিজ্ঞাপন দেয় তিনিও তাই দিচ্ছেন। এটা অন্যায়ের কিছু নয়। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে তা এভাবে প্রদর্শন করার মধ্যে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা আমাকে হাত দেখিয়েছে তাদের সঙ্গেই আমার ছবি আছে। এতে প্রতারণার কিছু নেই।

কথিত জ্যোতিষরাজ লিটন দেওয়ানের প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, এ ধরনের জ্যোতিষ, জিনের বাদশাকে র‌্যাব বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করেছে। কিন্তু আইনের ফাঁক গলে সহজেই তারা জামিনে বেরিয়ে যায়। প্রতারকদের চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট না হতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতারকদের হাতে যারা প্রতারিত হয়েছেন তারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে র‌্যাব।
Post By Abu Talha

Wednesday, August 31, 2016

অলিম্পিক স্বর্ণপদকে স্বর্ণ আছে কতখানি, আর এর মূল্য কত?



অলিম্পিকের একটি পদকজয়ের জন্য কী আপ্রাণ চেষ্টাটাই না করেন খেলোয়াড়রা! চার বছরের নিরলস অনুশীলন, পরিশ্রমের পর হয়তো গলায় ঝোলাতে পারেন একটি স্বর্ণ বা রৌপ্যপদক। নিশ্চিতভাবেই এই পদকগুলোর আবেগীয় মূল্য পরিমাপযোগ্য নয়। কিন্তু বাস্তবে কত মূল্য এই পদকগুলোর? স্বর্ণপদকগুলো কি পুরোটাই স্বর্ণ দিয়ে তৈরি?১৯১২ সালের অলিম্পিকে শেষবারের মতো স্বর্ণপদক বানানো হয়েছিল পুরোটাই স্বর্ণ দিয়ে। তার পর থেকে অলিম্পিক স্বর্ণপদকে স্বর্ণ দেওয়া হয় খুবই কম পরিমাণে। এবারের রিও অলিম্পিকের স্বর্ণপদকে স্বর্ণ আছে মাত্র ১.২ শতাংশ। ৯৮.৮ শতাংশই বানানো হয়েছে রূপা দিয়ে। ওপরে শুধু দেওয়া হয়েছে স্বর্ণের প্রলেপ। সেই হিসেবে ৫০০ গ্রাম ওজনের এই অলিম্পিকের স্বর্ণপদকের বাজারমূল্য দাঁড়াবে ৫৬৫ ডলার। যদি পুরোটাই সোনা দিয়ে বানানো হতো তাহলে সেটার মূল্য দাঁড়াত ২১ হাজার ডলার।

রৌপ্যপদকের পুরোটাই অবশ্য বানানো হয় রূপা দিয়ে। সেটার বাজারমূল্য ৩১৫ ডলার। আর ব্রোঞ্জপদকের ৯৫ শতাংশই বানানো হয় তামা দিয়ে। বাকি পাঁচ শতাংশ জিংক। ব্রোঞ্জপদকের বাজারমূল্য খুবই নগণ্য। মাত্র ২.৩৮ ডলার।

এই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু মাইকেল ফেল্পস তাঁর ২৩টি স্বর্ণপদকের জন্য পাবেন মাত্র ১৩ হাজার ডলার। কিন্তু চারটি অলিম্পিকে অংশ নিয়ে এই ২৩টি স্বর্ণপদক জিতে ফেল্পস যে খ্যাতি ও সম্মান অর্জন করেছেন, ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন; তার কি কোনো মূল্য নির্ধারণ করা যায়? সেটা নিশ্চিতভাবেই থেকে যাবে অমূল্য এক প্রাপ্তি হিসেবে।

Post By Abu Talha

জেনে নিন ১ সেপ্টেম্বর যাদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে



বহুল কাঙ্ক্ষিত দেশের প্রায় ১ কোটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টকার্ড বিতরণ করার জন্য প্রস্তুত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। ২০১৪ সালে ভোটার হয়েছিলেন ৪৬ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫০ নাগরিক এবং ২০১৫ সালে নতুন ভোটার হয়েছেন ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৯২৭ নাগিরক। এই দুই বছরের মোট ৯১ লাখ ২৮ হাজার ৬২২ জনকে স্মার্টকার্ড দেওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে অন্যান্যদের মধ্যেও বিতরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মার্টকার্ড বিতরণ করার কথা রয়েছে।

স্মার্টকার্ডে রয়েছে ২৫ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এটি সহজেই কেউ নকল করতে পারবে না। এছাড়া এটি দিয়ে ২০ ধরনের নাগরিক সেবা পাওয়া যাবে। এগোলোর মধ্যে রয়েছে- আয়করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর, ড্রাইভিং ও ট্রেড লাইসেন্স, পাসপোর্ট ও সরকারি সহয়াতা-ভাতা প্রাপ্তি এবং বিমানবন্দরে ই-গেইটের মাধ্যমে আগমন ও বহির্গমন প্রভৃতি। এদিকে ১৮ বছরের নিচের বয়সীদেরও জাতীয় পরিচয়পত্র দেবে ইসি। সেক্ষেত্রে তারা প্রাপ্ত বয়স্ক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভোটার হয়ে যাবেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এনআইডি শাখা ইতোমধ্যে কমিশন বৈঠকে স্মার্ট কার্ড বিতরণে সব রকম প্রস্তাবনা উত্থাপন করার পর নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সম্মতিও দিয়েছে। এনআইডি বিতরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন ঢাকার ভোটাররা। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যস্থানেও এই কার্ড বিতরণ করা হবে। বর্তমানে ১০টি মেশিনে কার্ড উৎপাদনের কাজ চলছে। প্রতিটি মেশিন মাসে ৫ লাখ কার্ড উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে। বর্তমানে ৯টি মেশিনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে উৎপাদন চলছে। আর একটি আগারগাঁওয়ের ইসলামী ফাউন্ডেশনে স্থাপিত এনআইডি শাখায় বসানো হয়েছে। স্মার্টকার্ড প্রস্তুত করে দিচ্ছে ফ্রান্সের একটি কোম্পানি। ১৮ মাসের মধ্যে কোম্পানিটি ৯ কোটি এনআইডি প্রস্তুত করে দেবে।

জানা গেছে, স্মার্টকার্ড বিতরণের সময় নাগরিকদের ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবিও সংরক্ষণ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করে কার্ড বিতরণ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি নেবে সংস্থাটি। এজন্য প্রয়োজনীয় মেশিন কেনার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঢাকার ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেওয়ার জন্য ৭৫টি ক্যাম্প করা হবে। যেখানে নাগরিকরা এসে তাদের কার্ড সংগ্রহ করবেন। প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ভোটারকে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি ভোটার রয়েছেন। এদের মধ্যে ৯ কোটি ১৮ লাখ ভোটার বর্তমান লেমিনেট করা জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন। যাদের সবাইকেই পর্যায়ক্রমে কার্ড সরবরাহ করবে ইসি। প্রতি কার্ডের জন্য খরচ হচ্ছে দুই ডলার। এর মেয়াদ হবে ১০ বছর। এর ফি দিয়ে নতুন করে কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।


প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেয় এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন বিগত নির্বাচন কমিশন। এরপর ২০১১ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহেন্স অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) নামে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল কঠোর নিরাপত্তাবিশিষ্ট উন্নত মানের এনআইডি সরবরাহ করা। এ প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে ২০১৬ সাল পর্যন্ত থাকলেও তা বাড়িয়ে এখন ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।
Post By Abu Talha

সোনার চেয়েও দামি এই ধাতু রয়েছে আপনার বাড়িতেই



একসময় এই ধাতু ছিল এত দামি যে, তা শোভা পেত রাজারাজড়ার মুকুটে। শুনতে যতই আজগুবি লাগুক, একসময় এই ধাতুর দাম ছিল সোনার চেয়েও বেশি।
এই ধাতু রয়েছে আপনার বাড়ির হাঁড়িকুড়ি বাসন-কোসনে। এই ধাতুর তৈরি ফয়েল আপনি ব্যবহার করেন খাবারদাবারকে টাটকা রাখতে। কিন্তু একসময় এই ধাতু ছিল এত দামি যে, তা শোভা পেত রাজারাজড়ার মুকুটে। শুনতে যতই আজগুবি লাগুক, একসময় অ্যালুমিনিয়ামের দাম ছিল সোনার চেয়েও বেশি।
যতদূর জানা যায়, অ্যালুমিনিয়াম প্রথম আবিষ্কৃত হয় রোমান সম্রাট টাইবেরিয়াসের আমলে, যিনি ছিলেন আজ থেকে প্রায় ২০০০ বছর আগেকার মানুষ। রোমান ইতিহাসের একটি প্রামাণ্য টেক্সট থেকে জানা যায়, একবার এক ধাতু সংগ্রাহক এক অদ্ভুত ধাতুতে তৈরি একটি প্লেট উপহার দেন সম্রাটকে। ধাতুটি ছিল রুপার মতো দেখতে এবং ওজনে ছিল অত্যন্ত হালকা। ইতিহাসবিদদের ধারণা ওই প্লেটটি ছিল অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি। টাইবেরিয়াস এই প্লেট দেখে খুশি হওয়ার বদলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই আবিষ্কারকের প্রাণনাশের আদেশ দেন। কারণ সম্রাটের ভয় ছিল, এই নতুন ধাতুটি তৎকালীন রোমের সোনা ও রুপার বাণিজ্যে ভাঙন ধরাতে পারে।

টাইবেরিয়াসের নির্দেশে ওই আবিষ্কারকের মৃত্যু বৃহত্তর মানবসমাজে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহারকে প্রায় ২ হাজার বছরের জন্য পিছিয়ে দেয়। উনিশ শতকের শুরুর দিকে ইউরোপে পুনরাবিষ্কৃত হয় অ্যালুমিনিয়াম। কিন্তু সেই সময় আবিষ্কৃত অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ছিল এত অল্প, এবং বক্সাইট আকরিক থেকে অ্যালুমিনিয়াম নিষ্কাষণের প্রক্রিয়া ছিল এত জটিল, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়সাধ্য যে অ্যালুমিনিয়াম হয়ে ওঠে এক দুর্মূল্য ধাতু। ১৮৫৩ সালের একটি হিসেব থেকে জানা যায়, সেই সময় আমেরিকায় প্রতি বছর ৯৩ হাজার ৩০০ কিলোগ্রাম সোনা উৎপাদন হতো, কিন্তু অ্যালুমিনিয়াম নিষ্কাষণ হতো মাত্র ৯৩ কেজি। এই দুর্লভ অথচ ব্যবহারোপযোগী ধাতুটি স্বভাবতই দুর্মূল্য হয়ে ওঠে।
সঙ্গত কারণেই উনিশ শতকের ইউরোপে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে অ্যালুমিনিয়াম। ডেনমার্কের সম্রাট দশম ক্রিশ্চিয়ান অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি মুকুট পরিধান শুরু করেন। তৃতীয় নেপোলিয়ন তাঁর ডিনার টেবিলে অতিথিদের নজর কাড়ার জন্য অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি বাসনকোসন ব্যবহার শুরু করেন। এমনকী ১৮৮০-র দশকে আমেরিকায় যখন ওয়াশিংটন মনুমেন্ট তৈরি হয় তখন তার একেবারে শীর্ষে বসানো হয় অ্যালুমিনিয়ামের একটি ফলক।


১৮৮৬ সালে ইলেক্ট্রোলাইসিসের মাধ্যমে বক্সাইট থেকে অ্যালুমিনিয়াম নিষ্কাষণের পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়। এর ফলে অ্যালুমিনিয়াম তৈরির ব্যয় এক ধাক্কায় কমে যায় অনেকখানি। অ্যালুমিনিয়ামের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায় অনেকখানি। এই সময় থেকেই অ্যালুমিনিয়ামের দাম কমতে শুরু করে। বিশ শতকের শেষ দিকে দেখা যায়, বাজার ছেয়ে গিয়েছে অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি জিনিসপত্রে। বাসনকোসন থেকে শুরু করে খাবার মোড়ার ফয়েল পর্যন্ত সবকিছুই তৈরি হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে। এখন তো আমাদের ঘরে ঘরে অ্যালুমিনিয়াম। অ্যালুমিনিয়ামের এই প্রাচুর্য দেখে বিশ্বাস করা কঠিন যে, এককালে এই ধাতু ছিল সোনার চেয়েও মূল্যবান।





Post By Abu Talha

Sunday, August 28, 2016

১৪০০ বছর আগে রাসুল (সাঃ) এর বাণী আজ বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছে !


মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেনঃ "পুরুষের প্যান্ট বা কাপড় পায়ের টাখনুর উপর পড়তে হবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে।"
- (সহীহ বুখারী ৫৩৭১)

বিজ্ঞান বলে, পুরুষের টাখনুর ভিতর প্রচুর পরিমানে হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কেউ যদি তা খোলা না রেখে ঢেকে রাখে, তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।
মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, "ভ্রু প্লাগকারীর উপর আল্লাহর লানত"
- (সহীহ বুখারী ৫৫১৫)
বিজ্ঞান বলে, ভ্রু হলো চোখের সুরক্ষার
জন্য। ভ্রুতে এমন কিছু লোম থাকে যদি তা
কাটা পড়ে যায় তাহলে ভ্রুপ্লাগকারী পাগল হতে পারে, অথবা মৃত্যুবরণও করতে পারে।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়া হারাম"
- (সহীহ বুখারী ৬১২৪)
বিজ্ঞান বলে, ধুমপানের কারনে ফুস্ফুসের ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস ও হৃদরোগ হয়ে মানুষ মারা যায়। ধুম্পান করলে ঠোট, দাতের মাড়ি, আঙ্গুল কালো হয়ে যায়। যৌনশক্তি ও ক্ষুধা কমে যায় এমনকি স্মৃতিশক্তি ও কমে যায়।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম।"
- (মুসলিম ১৬৫৫)
বিজ্ঞান বলে, স্বর্ণ এমন একটি পদার্থ যা স্কিনের সাথে মিশে ব্লাডের মাধ্যমে ব্রেনে চলে যায়। আর তার পরিমান যদি ২.৩ হয় তাহলে মানুষ তার আগের স্মৃতি সব হারিয়ে ফেলবে।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ঘুমানোর সময় আলো নিভিয়ে এবং ডান কাত হয়ে ঘুমাতে।
- (সহীহ বুখারী ৩২৮০)
বিজ্ঞান বলে, ডান কাত হয়ে ঘুমালে হার্ট ভালো করে পাম্প করে। আর লাইট না নিভিয়ে ঘুমালে ব্রেনের এনাটমি রস শরীরে প্রবেশ করতে পারে না, যার ফলে ক্যান্সার হওয়ার খুব সম্ভবনা থাকে।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা গোফ ছেটে ফেল এবং দাড়ি রাখ।"
- (সহীহ মুসলিম ৪৯৩ ও ৪৯৪)
বিজ্ঞান বলে, দাড়ি না রাখলে স্ক্রিন ক্যান্সার, ফুস্ফুসের ইনফেকশন এবং ৪০ এর আগে যৌবন হারানোর সম্ভবনা থাকে।
আল্লাহ সুবনাহু তায়ালা বলেন, "আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়োনা। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং ধ্বংসের পথ।"
- (বনি ইসরাঈল ৩২) নেশাগ্রস্থ শয়তানের কাজ (মাইদাহ ৯০)
বিজ্ঞান বলে, পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল সম্পর্ক সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নেশায় যদি কেউ জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার ব্রেনের ফরেন্টাল এরিয়া পরিচালনা করার ইনটেলেকচুয়াল সেলগুলো থরথর করে কাপতে থাকে এবং অস্থির হয়ে যায়। যার ফলে সে নেশাগ্রস্থ হয়ে মাতাল ও অসুস্থের মত জীবন পরিচালনা করে। এবং তা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
আল্লাহ বলেন, "আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।"
- (আরাফ ২০৪)
বিজ্ঞান বলে, কুরআনের সাউন্ড ওয়েব শরীরের সেলগুলোকে সক্রিয় করে, অসুস্থতা আরোগ্য করে বিশেষ করে হার্ট এবং ক্যান্সার রোগীদের। আর ব্রেনকে এমনভাবে চার্জ করে, ঠিক যেমন ভাবে ফিউজ হওয়া ব্যাটারীকে সচল করা হয়।
দয়া করে শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।

Post By Abu Talha

Tuesday, August 23, 2016

আত্মহত্যা করাটা কোনও সমাধান হলো ?


আত্মহত্যা করাটা কোনও সমাধান
হলো ? কিসের জন্য
আত্মহত্যা করবে তুমি ? কার জন্য ?
একজন হীনমন্য মানুষ,
যে তোমাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য
করছে, যে তোমাকে এই সুন্দর পৃথিবীর
সমস্ত ভালবাসার, ভাললাগার মানুষদের
কাছ
থেকে চিরতরে দূরে সরিয়ে দিতে একবা
ভাবছে না - কি দরকার তার তোমার
জীবনে ? সে তো তোমার জীবনের
মূল্যই বোঝে না ! কেন তুমি তার জন্য
তোমার জীবন বিনাশ করে দিচ্ছো ?
কি মনে হয় তুমি চলে গেলে সে ও
তোমার সাথে সাথে চলে যাবে ? ভুল !
দিব্যি সে হাওয়া বাতাস
খেয়ে ঘুরে বেড়াবে ।
তুমি একজনের জন্য
কতজনকে একাকি করে দিচ্ছো জানো ?
কত মানুষ তোমার
পানে চেয়ে আছে সে খবর কি রাখো ?
তুমি ঐ একজনকে ছাড়ো, হাজারজন
তোমার পাশে দাঁড়াবে । তোমার
পানে চেয়ে থাকা ঐসব মানুষদের
কি কোনও অধিকার তোমার উপর নাই ?
সবার অধিকার নষ্ট করার অধিকার
তোমাকে কে দিয়েছে শুনি ? জবাব
আছে তোমার কাছে ?
চুপ করে আছো কেনো ???
তোমার
সৃষ্টিকর্তা তোমাকে সৃষ্টি করেছেন
আত্মহত্যা করার জন্য ??


Post By Abu Talha

Monday, August 22, 2016

সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষা বর্ষের অনার্স ভর্তি পরীক্ষার সম্ভব্য তারিখ


দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভব্য সময়সূচী ঘোষনা করেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের উপাচার্যদের সংগঠন “বিশ্ববিদ্যালয় পরিশদ”। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্থায়ী কমিটির ২৪৭তম সভায় এ তারিখ ধার্য করা হয় বলে ফোরামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ

১। ঢাবা বিশ্ববিদ্যালয়: ২৩, ২৪ ও ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ২১ ও ২৮ অক্টোবর (সকালে)
২। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: ২৩, ২৪ ও ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ২১ ও ২৮ অক্টোবর (বিকালে)
৩। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল: ১৪, ১৫, ২১ ও ২২ অক্টোবর
৪। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ২৩-২৭ অক্টোবর
৫। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ২৩-৩১ অক্টোবর
৬। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: ৩-৫ নভেম্বর
৭। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: ১৩-১৭ নভেম্বর
৮। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: ১৮-১৯ নভেম্বর
৯। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯-২৩ নভেম্বর
১০। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯-২৭ নভেম্বর
১১। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়: ২৪-২৮ নভেম্বর
১২। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: ২, ও ৯ ডিসেম্বর
১৩। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়: ২৬ ডিসেম্বর ফাজিল সম্মান, ৮-২০ জানুয়ারী ফাজিল পাস
==============================================
১৪। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): ২২ অক্টোবর
১৫। রাজশাহী প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ২৬ অক্টোবর
১৬। খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ২৮ অক্টোবর
১৭। চট্টগ্রাম প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ৫ নভেম্বর
১৮। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়: ১৮ নভেম্বর
===================================================
১৯। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ২৯ অক্টোবর
২০। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ৮ নভেম্বর
২১। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ২৫ নভেম্বর
২২। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ৯ ডিসেম্বর
===================================================
২৩। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েস্নেস বিশ্ববিদ্যালয়: ৩ ডিসেম্বর
====================================================
২৪। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ৪-৭ নভেম্বর
২৫। নেয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১১ ও ১২ নভেম্বর
২৬। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ২ ডিসেম্বর
২৭। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১০ ও ১১ ডিসেম্বর
২৮। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১৮-২১ ডিসেম্বর
২৯। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ২৩ ডিসেম্বর

 ===================ধন্যবাদ সবাইকে=====================


নিজে জানুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন।
Post By Abu Talha