Sunday, August 14, 2016

কিভাবে বুঝবেন আপনার মেমোরি কার্ডটি ভাল মানের নাকি খারাপ মানের??



আমরা প্রায় সবাই-ই কোন না কোন ভাবে মেমোরি কার্ড ব্যবহার কের থাকি।এবং আমাদের অনেক গুরুত্যপূর্ণ্ তথ্য, ডাটা এবং ইনফরমেশন থাকে যা হারিয়ে গেলে আমরা অনেক ঝামেলায় পরি। যেহেতু মেমোরি কার্ডের ভিতরে সকল গুরুত্যপূণ্য ইনফরমেশন থাকে তাই মেমোরি কার্ড সম্পর্কে জেনে রাখার গুরুত্য ও অনেক।

আজকে আমরা মেমোরি কার্ডের খুটিনাটি সম্পর্কে জানবো।

# লাইফ টাইম বলতে ‍কি বুঝায়?
মেমোরি কার্ড তৈরি করা হয় ফ্লাশ মেমোরি সার্কিট দিয়ে। এসব সার্কিটে নির্দিষ্ট সংখ্যকবার ডাটা পড়া এবং লিখা যায়। যেমন কম দামি মেমোরির ক্ষেত্রে 10,000 (দশ হাজার) বার আর বেশী দামী মেমোরির ক্ষেত্রে 100,000 (এক লক্ষ) বার বা 1,000,000 (দশ লক্ষ) বার ও হতে পারে এবং এই রিড/রাইট সাইকেলের লিমিটকে ধরা হয় মেমোরি কার্ডের লাইফ টাইম।এই রিড/রাইট সখ্যা শেষ হয়ে গেলে মেমোরি এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাবে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে একজন মানুষ যদি 50 বছর বাচে এবং প্রতিদিন 5 বার করেও মেমোরি রিড/রাইট করে তাহলেও 50 বছরে 91250 বার রিড/রাইট করা হবে।অথচ একটা ভাল মেমোরির রিড রাইট সংখ্যা 100,000 (এক লক্ষ বার) মেমরী কার্ডের গ্যারান্টী না দেখে দেখা উচিৎ সেটার লাইফ-টাইম রিড-রাইট সাইকেল কতবার সেটা দেখে মেমোরি কেনা উাচৎ।


# কার্ডের ক্লাস বলতে কি বুঝায়?
মেমোরি কার্ডের সুবিধা অসুবিধা নির্ভর করে অনেকটা রিড/রাইটের স্পিড বা গতির উপর। আর এই স্পিড বা গতি বুঝার জন্য মেমোরি কার্ডের উপর খেয়াল করলে দেখবেন তার গায়ে ক্লাস লিখা আছে।
আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে ক্লাসের মান বের করা যায়।
ক্লাস ২ = ২মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে রাইট করা সম্ভব

ক্লাস ৪ = ৪মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে রাইট করা সম্ভব
ক্লাস ৬ = ৬মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে রাইট করা সম্ভব
ক্লাস ৮ = ৮মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে রাইট করা সম্ভব
ক্লাস ১০ = ১০মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে রাইট করা সম্ভব
ক্লাস U1 = ১০ মেগাবাইটের ওপর স্পিডে রাইট করা যাবে প্রতি সেকেন্ডে


পরামর্শ: এইচডি ১০৮০পি বা 720 পি ভিডিও রেকর্ড করার জন্য অন্তত ক্লাস ৬ কার্ড কেনা উচিৎ। তবে ৬ এর চাইতে ক্লাস ১০ বা ক্লাস U1 ও ব্যবহার করতে পারেন।

#কিভাবে বুঝবেন কার্ডটির সত্যিকারের নির্মাতা কে?
মেমরী কার্ড কিনতে গেলে ব্র্যান্ডের অভাব পড়েনা। তোশিবা, স্যামসাং, ট্র্যানসেন্ড, এপ্যাসার, এ-ডাটা, স্যানডিস্ক, এমনকি কালাম নামেও অনেক কার্ড পাওয়া যায়। তবে কেনার সময় এই বিষয় খুব সতর্কতা দরকার।
ð  স্যামসাং এর তৈরি কার্ড বাংলাদেশে খুব কম পাওয়া যায়। 80-90% ক্ষেত্রেই নিম্মমানের কার্ড স্যামসাং ব্র্যান্ডের নামে এর নামে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারজাত করে
ð   তোশীবার কার্ড ও একই, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই নকল কার্ড এবং তা প্রায় 70-80%
ð   স্যান ডিস্কের ক্ষেত্রেও অনেকটাই এমন, তবে U1 কার্ডগুলো নকল হবার সম্ভাবনা কম থাকে। ভালো নামী দোকান থেকে কিনুন তাহলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কম
ð  ট্র্যানসেন্ড, এ-ডাটা বা এপ্যাসার ব্র্যান্ডের মেমোরিগুলো খুব ভাল হয়, এদের কার্ড ওরিজিনাল প্রচুর পাওয়া যায় ও লাইফ-টাইম ও ১০০,০০০ বার এর বেশী।

কার্ড কেনার সময় কার্ডের গায়ে কোনও হলোগ্রাম আছে কিনা দেখে নিবেন। হলোগ্রামে যদি KALAM শব্দটি চোখে পড়ে তাহলে বেশী দাম দিয়ে কিনবেন না, কেননা তা নকল ও নিম্মমানের হয় অল্পকিছুদিন ব্যবহার করা যায় লাইফ-টাইম গ্যারান্টি পাওয়া যায় না।

ট্র্যানসেন্ড, এ-ডাটা বা এপ্যাসার নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই, এদের কার্ড ওরিজিনাল প্রচুর পাওয়া যায় ও লাইফ-টাইম ও ১০০,০০০ বার এর বেশী।

==============ধণ্যবাদ সবাইকে=============

No comments:

Post a Comment